আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সবিহীন ২০ মাদরাসা বাণিজ্যের নেপথ্যে অলিউল্লাহ!
আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্সবিহীন ২০ মাদরাসা বাণিজ্যের নেপথ্যে অলিউল্লাহ!
এম এস রহমান,
শিক্ষার আলো ছড়ানোর আড়ালে গাজীপুরে কোমলমতি শিশুদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো সেই 'দারুস সালাম মাদরাসা'র থলের বেড়াল এবার বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। গত ১৩ মে ৭ বছরের শিশু শিক্ষার্থী আরিয়ান ইসলাম রিয়ানকে লোহার স্কেল দিয়ে পিটিয়ে এবং লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে জখম করার ঘটনায় ইতিমধ্যেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা (মামলা নং- ৪২/অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের গাজীপুর মহানগর শাখার "আহবায়ক কমিটির সদস্য" হিসেবে জাহির করতেন এই অলিউল্লাহ। নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে ওলামা লীগের প্যাডে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটির তালিকাও তিনি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে তৈরি করা এই কাগজটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ‘দুই নম্বর’।
মূলত কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বিগত ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এই সিন্ডিকেটটি স্থানীয়ভাবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তারা শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেও পার পেয়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাত।) রুজু হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রধান আসামি মাদরাসার শিক্ষক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৩০)। তবে এই মামলার দ্বিতীয় আসামি এবং মাদরাসার পরিচালক মো. অলিউল্লাহ (৪৫)-এর রাজনৈতিক প্রভাব, ভুয়া পদ-পদবি ও লাইসেন্সবিহীন মাদরাসা বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে আমাদের অনুসন্ধানে।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় একচেটিয়া প্রায় ২০টি মাদরাসা খোলেন এই অলিউল্লাহ। যার একটিরও কোনো বৈধ সরকারি লাইসেন্স বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নেই। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আবাসিক ও অনাবাসিক এসব প্রতিষ্ঠান খুলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেদারসে কোটি কোটি টাকার "মাদরাসা বাণিজ্য" চালিয়ে আসছিলেন। আর এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো অত্যন্ত বদমেজাজী, উগ্র ও অপেশাদার ব্যক্তিদের, যাদের হাতে নিরাপদ নয় কোমলমতি শিশুরা। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের গাজীপুর মহানগর শাখার "আহবায়ক কমিটির সদস্য" হিসেবে জাহির করতেন এই অলিউল্লাহ। নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে ওলামা লীগের প্যাডে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটির তালিকাও তিনি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতেন। ,
রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এই সিন্ডিকেটটি স্থানীয়ভাবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই তারা শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করেও পার পেয়ে যাওয়ার দুঃসাহস দেখাত। এদিকে ভুক্তভোগী শিশু রিয়ানের বাবা মো. নজরুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রেকর্ড করলেও মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কসাইবাড়ী ও পশ্চিম সালনা এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক তকমাধারী অলিউল্লাহর তদারকিতে থাকা এসব মাদরাসায় দ্বীনি শিক্ষার নামে কোমলমতি শিশুদের ওপর নিয়মিতই এমন টর্চার সেলের মতো আচরণ করা হতো।
সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় (শিশুকে আঘাত ও শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অপরাধ) মামলাটি দায়েরের পর সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলমকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন অলিউল্লাহ, এই চক্রের মূল হোতা অলিউল্লাহর এমন বেআইনি মাদরাসা বাণিজ্য, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং শিশু নির্যাতনের পৃষ্ঠপোষকতা করার অপরাধে তাকে ও তার সহযোগী পাষণ্ড শিক্ষক মামুনকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স